ভ্রান্ত পথে চলা
উৎসর্গ: যারা ভ্রান্ত পথ পরিহার করতে চায়।
দশ মাইল ফাঁক থেইক্যা আইলাম। একুটু বইস্যা জিরাইয়া লই।
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------এই রিক্সওয়ালা জোরে যাও; এমননিতেইত দেরী করে ফেলেছ।
: কেমনে যামু সাব? দেখতাছেন না বাতাস কেমুন, বৃষ্টি হইবে।
: আহ্! বৃষ্টিত চলে এসেছে। তোমার রিক্সায় পলিথিন রাখনা কেন? ছাতা আছে নাকি দাও। আমি বৃষ্টিতে ভিজতে পারি না।
: রিক্সওয়ালা ছাতা বের করে দিল। ধীরে ধীরে চলছে রিক্সা। অফিসের সামনে এলে বৃষ্টি থামল সিক্ত রিক্সা চালক সাহেবকে অফিসে নামিয়ে দিয়ে চলল গন্তব্যে।
(১০+৯) টি ধাপ পেরিয়ে দোতলায় অফিস।
: সোলায়মান সাহেব দেরী হল যে আজ?
: রাস্তায় যত চোরের আমদানি। নেতা চোর, কর্মি চোর, ভোক্ত চোর, আমি-আপনি সব।
: বড় সাহেব সালাম দিয়েছেন, যান সোলায়মান সাহেব।
বড় সাহেবের ধমক খেয়ে সোলায়মান ফিরে এল। আজ নাকি সোলায়মানের জন্য অফিসের বেশ কিছু টাকা লস গেছে। বড় সাহেব গাড়ী করে অফিসে আসেন, উনি কি বুঝবেন কষ্টের? সোলায়মান আসে রিক্সা করে; রাস্তা যে খারাপ রিক্সাওয়ালাদের কষ্ট। ৭১ এর পর স্বাধীন দেশে স্বাধীন প্রতারকের দল আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে মানুষকে আর তারা মানুষই ভাবেনা।
: কি সোলায়মান কি ভাবছেন?
: না আজ আর ভালমনে কাজ করতে পারব না দাদা।
অফিস থেকে সোলায়মানের বাড়ী খুব বেশি দূরে না; দুই/তিন কিলোমিটার হবে আর কি। ছোট চাকরি করে সোলায়মান; টেম্পুতে যাবার সমর্থ নেই রিক্সায় যায়। এক কেজি আপেল কিনল সলেমান তার পর রিক্সায় উঠে রওনা দিল। ছোটবেলা বাবা-মা ওকে সলেমান বলেই ডাকত অবশ্য।
: স্যার ছাতাখান যে নতুন।
: হ্যাঁ আজই কিনলাম। যে রোদ পড়েছে।
পড়ন্ত বিকেলে রিক্সা দ্রুত যাচ্ছে। রিক্সাওয়ালার গা বেয়ে দরদর করে ঘাম ঝরছিল। রোদ বেশি নেই তবুও ছাতা মাথায় নিয়ে বসা সোলায়মান। রোদটা সোলায়মানের কাছে প্রচণ্ড হলেও রিক্সাচালকদের কাছে নিত্যনৈমিত্তিক।
সদ্যবিবাহিত সোলায়মান, বউগেছে বাপের বাড়ী। আজ বাড়ী ফেরার কথা। এবার বৌকে কথা দিয়েছে বাপের বাড়ী থেকে ফিরলে তার মামা বাড়ী দেখাতে লিয়ে যাবে। অফিস থেকে ছুটি নেবার কথা ভাবছিল সোলায়মান; আর নেবেইত ছুটি না নিয়েত আর দুচারদিন বেড়ানো যাবে না; যে বড় সাহেব!
: কবে ফিরলেন সোলায়মান সাহেব?
: গত রাতে।
: কেমন দেখলেন মামা শশ্বুর বাড়ী?
: ভাল, নতুন জায়গা হানিমুন আর কি;
: হবেইত কক্সবাজার বলেকথা।
ফিরে শুনল সোলায়মান বড় সাহের বদলি হয়েছেন, নতুন সাহেব আসেননি। কাজ-কর্ম কিছু তেমন নয়। জানেনত সরকারি কাজ বলে কথা। কে কখন আফিসে আসে যায়, কে নিয়ন্ত্রণ করে?
একবার সোলায়মান বড়সাহেবের অধীনতামূলক মিত্রতা মেনে না নেওয়ার একমাস বরখাস্ত হয়েছিল। সোলায়মান বাড়ীর খায় ছোট চাকরি করে কিন্তু বাপের অবস্থা ভাল। তাই একমাস বেতন না পেলে যে না খেয়ে মরতে হবে তা নয়। কাজটি অবৈধ, তাই সোলায়মান অস্বীকার করেছিল।
: অই রিক্স যাইবা নাকি?
: বেটায় ঘুমাইচে; চল।
: সলেমান মিয়া দিনে দুপুরে ঘুমাও কেন? প্যাসেঞ্জার আইস্যা চইল্যা যাইতাছে, ওঠ মিয়া।
: আ-হ-আ-আ-আ-আ, শরীলডা কেলান্ত লাগতাছে।
: নাকি নয়া বিবির সপন?
: এই যে রিক্সা যাবে নাকি?
: যামুনা কেন? যাওনের লাইগ্যাইত রিক্সা লইয়া বাইর হইচি, ওঠেন।
নিদ্রাভঙ্গের পর রিক্সাওয়ালা (সোলায়মান) সলেমান মিয়া আবার রিক্সা চালাতে আরম্ভ করল এবং বাস্তব জীবনে ফিরে এল।
আবার হবে শুরু..........
রচনা: ফাত্তাহ্ তানভীর মো: ফয়সাল (রানা চৌধুরী)
তারিখ: ২২/০৭/২০০১
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন